শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ডেঙ্গু মোকাবেলায় মাস্টারপ্ল্যান জরুরি

একটি জনপ্রত্যাখাত ও ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকার সবচেয়ে নেতিবাচক দিক হলো, জনগণের মৌলিক ইস্যুগুলো একরকম আড়ালেই থেকে যায়। চোখ ধাঁধানো কিংবা সস্তা জনপ্রিয়তানির্ভর কাজ করার প্রবণতা বেশি থাকে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ক্ষমতায় যেভাবেই হোক থেকেছে সাড়ে ১৫ বছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এতটা লম্বা সময় ক্ষমতার মসনদে থাকার সুযোগ পায়নি। এরকম দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে যে কোনো সরকার জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সুরাহা করে এবং একইসাথে এমন কিছু দূরদর্শী পদক্ষেপ নেয়-যা দেশকে স্থিতিশীল উন্নয়নের দিকে নিয়ে যায়। পৃথিবীর অনেক দেশেই এরকম উদাহরণ রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই যেন শুধু নেতিবাচক দৃষ্টান্তগুলো তৈরি হয়ে যায়। নাগরিক সমস্যা সমাধানের মতো যথেষ্ট সময় পেলেও সে পথে হাঁটেনি পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে, ২০২৪ সালের এই সময়ে এসেও বাংলাদেশের নাগরিকেরা বিশে^র অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে। নানাবিধ সমস্যার ভেতর একটি হলো নগরের অপরিচ্ছন্নতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। যার ফলশ্রুতিতে ডেঙ্গুসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতি বছর আগের তুলনায় আরো বেড়েই চলেছে।

বুধবার দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, নভেম্বর মাসের প্রথম ১৯ দিনে ২০ হাজার ৩০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের। গত সোমবার একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে করে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ১২০ জনে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে গত একদিনে আরো ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে এ বছর মশাবাহিত এ রোগে মোট ৪২২ জনের মৃত্যু হল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০৫ জন, ঢাকা বিভাগে ১৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৩৫ জন, চট্টগ্রামে ১৩৭ জন, খুলনায় ১৪০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৪ জন, রংপুর বিভাগে ১২ জন, বরিশাল বিভাগে ৮৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যিনি মারা গেছেন, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্যদিকে, মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৭০৫ জন রোগী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩৯৯৩ জন। এ বছর সবচেয়ে বেশি ৩০ হাজার ৮৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে অক্টোবর মাসে, ঐ এক মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৩৫ জনের। আর নভেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে ২০ হাজার ৩০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।

আওয়ামী লীগ আমলে প্রতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিমাণ বেড়েছে কারণ তারা এ সংকট সমাধানের তেমন কোনো কার্যকরী উদ্যোগই নেয়নি। দুই মেয়র সাহেবের কিছু লোক দেখানো তৎপরতা ছাড়া ডেঙ্গু মোকাবেলায় তেমন কিছু করাও হয়নি। মশার ঔষধ ঠিক মতো দেওয়া হয়নি। আবার ঔষধের স্থলে পানি বা অকার্যকর উপাদান থাকায় সেগুলো দিয়ে মশার বংশবিস্তার রোধ করাও সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দুর্নীতি মুক্ত করা। 

যাতে মশার জন্য কার্যকরী ঔষধ ক্রয় করা হয় এবং সেগুলো যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়। সবচেয়ে বড়ো কথা, নগরীর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আর শুধু মওসূমভেদে নয় বরং সারা বছর জুড়েই ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। এজন্য শীর্ষ পর্যায় থেকে বছরব্যাপী মাস্টারপ্ল্যান করা অপরিহার্য। আগামী বছর ডেঙ্গু রোগে যেন এত বেশি সংখ্যক লোকের প্রাণহানি না হয় তা নিশ্চিতে এখন থেকেই কাজ করা প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ